রামের ধনুক থেকে আকাশ দেখা যাচ্ছে। পুরো পুরু কালো মেঘ , তারমধ্যে বেনীআসহকলা। একটা বিস্তৃত আকাশ - একটা বিস্মৃত পরিধি । আমার চোখ গেল। 'চোখ গেল' পাখিদের ডাক এদিকে নেই। হয়তো সমস্ত শহর দেখছে একটাই জিনিস। রামের ধনুক এখন সবচেয়ে বড় মঞ্চ। যাকে গোটা শহর দেখে। গোটা গোটা উঠে যাওয়া মুখে ভরত পাগলও দেখে। গলির বাঁক ঘুরে ডি.বি.সি রোডে ঢুকতেই দেখি রাস্তা জুড়ে বাইক থেমে আছে , প্রত্যেকটি মানুষের হাতে মোবাইল , রামের ধনুক বন্দী হয়ে যাচ্ছে। এক্ষুণি ঝড় উঠবে , বৃষ্টি নামবে। এইযে ওঠানামা এর মাঝখানে প্রচুর মানুষ রাস্তায়। সে এক যুগান্তকারী দৃশ্য। ভাত বেড়ে দেওয়া থালার মত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেরা স্যোসাল সাইটে লাইকের ভিড়ে চাপা পড়ছে , গাড়ি চাপা পড়া আজকাল মামুলি ব্যাপার। আমি রামের অত বিশাল ধনুকের চেয়েও এই রোডের ওপর নজর রেখেছি বেশি। এক্ষুনি রোদ ঝাপসা হয়ে যাবে। দুর্দান্ত হাওয়ায় আমার শরীর জুড়িয়ে যাচ্ছে আরামে , রামের দেখা মিলবেনা এক্ষুনি , শুধু ধনুক মিলিয়ে যাচ্ছে। আকাশ আরোও কালো - তারমধ্যে সিপিএমের লাল পতাকা এত চঞ্চল ভাবে উড়ছে পার্টি অফিসের ছাদে যে এই জায়গাটা যেন নিমেষেই রাশিয়া হয়ে যাচ্ছে। রাম চলে গেলো ধনুক নিয়ে , ঝড় উঠলো - বৃষ্টি নামলো , ভরত পাগলের সেকি কান্না! তার খিদে জেগে উঠেছে - চোখ দিয়ে জল নামছে , ঠিক যেন ঝড় ও বৃষ্টি পিঠোপিঠি ভাইবোন। শিশুর মতন আমার মনে হলো সারা পৃথিবীকে। এইসব মনে হওয়া বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়না কোনো দিন। এবং মিনিট পাঁচেক হলো মাত্র। যেসকল পাত্রপাত্রীরা দোকানের শেডের তলায় মাথা বাঁচিয়েছিল তারা টুকটাক করে নেমে পড়ছে ফের রাস্তায়। পুরো আয়নার মত রাস্তা। নিচে তাকিয়েও ওপর দেখা যায়। এখন আমি রঙ্গন নই। যখন এইভাবে দেখি , যে তিন-চার জনের কাছে আমি বেঁচে আছি - আমার আশেপাশে শুধু সেই কয়েকজন অস্তিত্ব , এই নাম কোনো পদবীর ধার ধারেনা। 'বী' অর্থে মৌমাছির পা কখনোই রঙ্গন গাছের ফুলে বসেনি , তার ডাকনামে তো নয়ই।
একা একা হাঁটা কালীন যেসব লেখা আসে তা খাতায় নামেনা , যেমন এখন আমি ডি.বি.সি রোড ছাড়িয়েছি নতুন পাড়ায় ঢুকে , টোটো করে যাচ্ছে কোনো এক টোটোপাড়ার বাসিন্দা - মাথায় বাইকের হেলমেট। এটা অবাক করা কিছু এমন দৃশ্য নয়। পায়ের জলে রাস্তায় আমার স্মৃতি রেখে যাচ্ছি , এইসব চিত্র আঁকতে আঁকতে মনে হলো ডায়েরি বিষয়টায় এত লেখা লেখা ব্যাপার যাতে না আসে - এ আমার অতি ব্যাক্তিগত গত হওয়া ঘটনার বিবরণ। পেটের ভেতর এখন বিবর জেগে উঠছে , উঠোন পেরিয়ে বারান্দায় আসছি আমি , ভরত পাগলের শৈশব কান্না আমার নিরাকার ব্রাহ্ম পরিবারের উপহার হোক। আমার খিদে পেয়েছে। খিদে পেলে চিৎকার করি ," মা , খাবার দাও - " এই চিৎকার ভরত পাগল করে কার কাছে? তাই খিদের চেয়েও এই চিৎকার করার লোক আমাদের বেশি দরকার।
(চিত্র ঋনঃ Surgey Volkov)

"শিশুর মতো মনে হল... " দারুণ
ReplyDeleteধন্যবাদ আপনাকে
Delete